
বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাসে নায়করাজ রাজ্জাক একটি অবিস্মরণীয় নাম। কয়েক দশক ধরে অভিনয়, পরিচালনা ও প্রযোজনার মাধ্যমে তিনি বাংলা চলচ্চিত্রে অসামান্য অবদান রেখেছেন। বিশেষ করে ষাট ও সত্তরের দশকে তাঁর অভিনয় ঢালিউডের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তাঁর প্রকৃত নাম আব্দুর রাজ্জাক। তবে দর্শক ও চলচ্চিত্রপ্রেমীদের কাছে তিনি ‘নায়করাজ রাজ্জাক’ নামেই সবচেয়ে বেশি পরিচিত। বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়ক হিসেবে তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ার তাঁকে কিংবদন্তির মর্যাদা দিয়েছে।
অভিনয়ের পাশাপাশি পরিচালক ও প্রযোজক হিসেবেও তিনি সফল ছিলেন। চলচ্চিত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, আজীবন সম্মাননা এবং ২০১৫ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার অর্জন করেন।
নায়করাজ রাজ্জাকের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
- পুরো নাম: আব্দুর রাজ্জাক
- পরিচিত নাম: নায়করাজ রাজ্জাক
- জন্ম: ২৩ জানুয়ারি ১৯৪২
- জন্মস্থান: নাকতলা, কলকাতা, ভারত
- মৃত্যু: ২১ আগস্ট ২০১৭
- পেশা: অভিনেতা, পরিচালক ও প্রযোজক
- কর্মজীবন: ১৯৬০-এর দশক থেকে ২০১৭
- স্ত্রী: খায়রুন্নেসা লক্ষ্মী
- সন্তান: ৫ জন
- ধর্ম: ইসলাম
- বিশেষ সম্মাননা: স্বাধীনতা পুরস্কার, আজীবন সম্মাননা
- জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার: শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে ৫ বার
নায়করাজ রাজ্জাকের শৈশব ও পরিবার
নায়করাজ রাজ্জাকের জন্ম ২৩ জানুয়ারি ১৯৪২ সালে কলকাতার নাকতলায়। তাঁর বাবা ছিলেন আকবর হোসেন এবং মা নিসারুন্নেসা।
ছোটবেলাতেই রাজ্জাক বাবা-মাকে হারান। প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি পড়াশোনা চালিয়ে যান। কলকাতার খানপুর হাইস্কুলে পড়ার সময়ই অভিনয়ের প্রতি তাঁর আগ্রহ তৈরি হয়।
সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় স্কুলের একটি নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে তাঁর মঞ্চজীবনের শুরু। এই অভিজ্ঞতা তাঁকে অভিনয়কে পেশা হিসেবে নেওয়ার স্বপ্ন দেখায়।
পরবর্তীতে অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ আরও গভীর হলে তিনি চলচ্চিত্রে কাজ করার চেষ্টা শুরু করেন। মুম্বাইয়েও গিয়ে চলচ্চিত্র বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি।
কলকাতায় রাজ্জাকের অভিনয়জীবনের শুরু
চলচ্চিত্রে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগে কলকাতাতেই রাজ্জাক অভিনয়ের সুযোগ পান। কলেজে পড়ার সময় ‘রতন লাল বাঙালি’ সিনেমায় ছোট চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তাঁর চলচ্চিত্রজীবনের শুরু হয়।
এরপর ‘পঙ্ক তিলক’ ও ‘শিলালিপি’ সহ কয়েকটি সিনেমায় কাজ করেন। তবে কলকাতায় তখন উত্তম কুমার ও সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের মতো জনপ্রিয় অভিনেতাদের দাপট ছিল। ফলে সেখানে নিজের অবস্থান তৈরি করা তাঁর জন্য সহজ হয়নি।
১৯৬৪ সালে কলকাতায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার পর রাজ্জাক পরিবারসহ ঢাকায় চলে আসেন। ঢাকায় এসে নতুন করে শুরু হয় তাঁর সংগ্রামী জীবন।
ঢাকায় এসে নায়ক রাজ্জাকের সংগ্রাম
ঢাকায় আসার পর রাজ্জাক শুরুতেই বড় নায়ক হিসেবে সুযোগ পাননি। প্রথম দিকে তিনি থিয়েটারে কাজ করেন এবং পরে টেলিভিশনের নাটকেও অভিনয় করেন।
‘ঘরোয়া’ ধারাবাহিক নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি টেলিভিশন দর্শকদের কাছে পরিচিত হয়ে ওঠেন। পাশাপাশি চলচ্চিত্র পরিচালক আব্দুল জব্বার খানের সঙ্গে সহকারী পরিচালক হিসেবেও কাজ করেন।
চলচ্চিত্রে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য তাঁকে অনেক সংগ্রাম করতে হয়েছে। কিন্তু অভিনয়ের প্রতি তাঁর দৃঢ়তা এবং নিজের দক্ষতার ওপর বিশ্বাস তাঁকে শেষ পর্যন্ত সফলতার পথে নিয়ে যায়।
‘তেরো নম্বর ফেকু ওস্তাগার লেন’ দিয়ে চলচ্চিত্রে অভিষেক
১৯৬৬ সালে ‘তেরো নম্বর ফেকু ওস্তাগার লেন’ সিনেমায় ছোট একটি চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে রাজ্জাকের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।
তখন তিনি নায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত ছিলেন না। কিন্তু তাঁর অভিনয় ও ব্যক্তিত্ব নির্মাতাদের নজরে আসে। এরপর একই বছরে জহির রায়হানের ‘বেহুলা’ সিনেমায় কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পান তিনি।
এই সিনেমায় তাঁর বিপরীতে অভিনয় করেন সুচন্দা। ‘বেহুলা’ ব্যবসাসফল হওয়ার পর রাজ্জাকের ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরে যায়। এরপর তাঁকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।
‘বেহুলা’ থেকে নায়করাজ হয়ে ওঠার গল্প
‘বেহুলা’ সিনেমার সাফল্যের পর রাজ্জাক দ্রুত ঢালিউডের শীর্ষ নায়কদের একজন হয়ে ওঠেন। তাঁর অভিনয়, ব্যক্তিত্ব এবং পর্দায় উপস্থিতি দর্শকদের কাছে বিশেষ জনপ্রিয়তা অর্জন করে।
ষাটের দশকের শেষভাগ থেকে পরবর্তী কয়েক দশক পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের অন্যতম প্রধান নায়ক ছিলেন। সুচন্দা, কবরী, শবনম, ববিতা, শাবানাসহ সে সময়ের প্রায় সব জনপ্রিয় অভিনেত্রীর সঙ্গে তিনি অভিনয় করেছেন।
তাঁর অভিনীত সিনেমাগুলো শুধু ব্যবসায়িক সাফল্যই পায়নি; বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় সংস্কৃতিতেও স্থায়ী প্রভাব ফেলেছে।
নায়করাজ রাজ্জাকের উল্লেখযোগ্য সিনেমা
দীর্ঘ অভিনয়জীবনে রাজ্জাক বাংলা ও উর্দু ভাষায় তিন শতাধিক সিনেমায় অভিনয় করেছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ পাওয়া যায়।
তাঁর উল্লেখযোগ্য সিনেমাগুলোর মধ্যে রয়েছে—
- বেহুলা
- আগুন নিয়ে খেলা
- এতটুকু আশা
- নীল আকাশের নিচে
- জীবন থেকে নেয়া
- ওরা ১১ জন
- অবুঝ মন
- রংবাজ
- আলোর মিছিল
- অশিক্ষিত
- ছুটির ঘণ্টা
- বড় ভালো লোক ছিল
- অশ্রু দিয়ে লেখা
- ময়নামতি
- মনোর মতো বউ
- বাবা কেন চাকর
বিশেষ করে ‘জীবন থেকে নেয়া’, ‘রংবাজ’, ‘অশিক্ষিত’ এবং ‘বড় ভালো লোক ছিল’-এর মতো সিনেমা তাঁর অভিনয়জীবনের গুরুত্বপূর্ণ কাজ হিসেবে আজও স্মরণ করা হয়।
‘বাবা কেন চাকর’ ও বাপ্পারাজের সঙ্গে রাজ্জাক
নায়করাজ রাজ্জাকের অভিনয় জীবনের শেষ দিকের আলোচিত সিনেমাগুলোর একটি ছিল ‘বাবা কেন চাকর’। এই সিনেমায় তাঁর সঙ্গে অভিনয় করেন তাঁর ছেলে বাপ্পারাজ।
বাবা-ছেলের আবেগ ঘন অভিনয় দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। সিনেমাটি রাজ্জাকের ক্যারিয়ারের জনপ্রিয় কাজগুলোর একটি হয়ে ওঠে।
নায়করাজ উপাধি কীভাবে পেলেন রাজ্জাক?
রাজ্জাককে কেন ‘নায়করাজ’ বলা হয়—এটি তাঁর ভক্তদের সবচেয়ে পরিচিত প্রশ্নগুলোর একটি।
বাংলা চলচ্চিত্র পত্রিকা চিত্রালী-এর সম্পাদক আহমদ জামান চৌধুরী তাঁকে ‘নায়করাজ’ উপাধি দেন। পরবর্তীতে এই নামই দর্শক ও গণমাধ্যমে স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়।
দীর্ঘ সময় ধরে চলচ্চিত্রে নায়ক হিসেবে তাঁর জনপ্রিয়তা এবং আধিপত্যের কারণেই ‘নায়করাজ’ নামটি তাঁর সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে যুক্ত হয়ে যায়।
রাজ্জাকের পরিচালনা ও প্রযোজনা ক্যারিয়ার
রাজ্জাক শুধু অভিনয়ের মধ্যেই নিজের প্রতিভা সীমাবদ্ধ রাখেননি। ক্যামেরার সামনে অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি পরিচালনা ও প্রযোজনার কাজেও যুক্ত হন।
তিনি মোট প্রায় ১৬টি সিনেমা পরিচালনা করেছেন। তাঁর প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান রাজলক্ষ্মী প্রোডাকশন থেকেও বেশ কয়েকটি সিনেমা নির্মিত হয়।
ফলে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে তিনি শুধু একজন অভিনেতা নন, বরং একজন পূর্ণাঙ্গ চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।
নায়করাজ রাজ্জাকের ব্যক্তিজীবন ও পরিবার
রাজ্জাক খায়রুন্নেসা লক্ষ্মীকে বিয়ে করেন। তাঁদের সংসারে তিন ছেলে ও দুই মেয়ে ছিল।
তাঁর সন্তানদের মধ্যে বাপ্পারাজ ও সম্রাট চলচ্চিত্রের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। বাবার পথ অনুসরণ করে বাপ্পারাজ অভিনয়ে এবং সম্রাটও বিনোদন জগতে নিজের পরিচিতি তৈরি করেন।
চলচ্চিত্রের ব্যস্ততার মধ্যেও রাজ্জাক পরিবারকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিতেন। তাঁর পারিবারিক জীবনের সঙ্গে যুক্ত একটি পরিচিত নাম হলো রাজলক্ষ্মী কমপ্লেক্স, যা তিনি তাঁর স্ত্রীর নামে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
নায়করাজ রাজ্জাকের পুরস্কার ও সম্মাননা
বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে দীর্ঘ ও সফল অবদানের জন্য নায়করাজ রাজ্জাক অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন।
তিনি শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে পাঁচবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। পুরস্কারপ্রাপ্ত সিনেমাগুলো হলো—
- কি যে করি — ১৯৭৬
- অশিক্ষিত — ১৯৭৮
- বড় ভালো লোক ছিল — ১৯৮২
- চন্দ্রনাথ — ১৯৮৪
- যোগাযোগ — ১৯৮৮
এ ছাড়া ২০১৩ সালে তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের আজীবন সম্মাননা লাভ করেন। বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও চলচ্চিত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৫ সালে তাঁকে স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়া হয়।
নায়করাজ রাজ্জাকের মৃত্যু
দীর্ঘ চলচ্চিত্র জীবনের পর ২০১৭ সালের ২১ আগস্ট নায়করাজ রাজ্জাক ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর।
জীবনের শেষ দিকে তিনি নিউমোনিয়াসহ বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র অঙ্গন ও অসংখ্য ভক্তের মধ্যে গভীর শোক নেমে আসে।
নায়করাজ রাজ্জাকের অবদান ও উত্তরাধিকার
বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের বিকাশে নায়করাজ রাজ্জাকের অবদান অসামান্য। তিনি এমন একটি সময়ে নায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলেন, যখন বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্প নিজস্ব পরিচয় তৈরি করছিল।
তাঁর অভিনয়ের ধরন, সংলাপ বলার ভঙ্গি, ব্যক্তিত্ব এবং পর্দায় উপস্থিতি পরবর্তী প্রজন্মের বহু অভিনেতাকে অনুপ্রাণিত করেছে।
অভিনেতা হিসেবে সাফল্যের পাশাপাশি পরিচালক ও প্রযোজক হিসেবেও তাঁর কাজ বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই নায়করাজ রাজ্জাককে শুধু একজন জনপ্রিয় নায়ক হিসেবে নয়, বরং বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের একজন পূর্ণাঙ্গ কিংবদন্তি হিসেবে স্মরণ করা হয়।
আজও তাঁর অভিনীত সিনেমা দর্শকদের কাছে জনপ্রিয়। নতুন প্রজন্মের দর্শকরাও তাঁর পুরোনো সিনেমা দেখে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের স্বর্ণযুগ সম্পর্কে জানতে পারে।
নায়করাজ রাজ্জাক সম্পর্কে মজার ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
- রাজ্জাকের জন্ম ২৩ জানুয়ারি ১৯৪২ সালে কলকাতার নাকতলায়।
- ছোটবেলায় স্কুলের নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে তাঁর অভিনয়জীবন শুরু হয়।
- কলকাতায় চলচ্চিত্রে অভিনয়ের পর ১৯৬৪ সালে তিনি ঢাকায় চলে আসেন।
- ১৯৬৬ সালে ‘তেরো নম্বর ফেকু ওস্তাগার লেন’ সিনেমায় ছোট চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে তাঁর অভিষেক হয়।
- ‘বেহুলা’ সিনেমায় কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি নায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠা পান।
- বাংলা ও উর্দু মিলিয়ে তিনি তিন শতাধিক সিনেমায় অভিনয় করেছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ রয়েছে।
- তিনি প্রায় ১৬টি সিনেমা পরিচালনা করেছেন।
- শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে তিনি পাঁচবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন।
- ২০১৩ সালে তিনি আজীবন সম্মাননা পান।
- ২০১৫ সালে তিনি স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত হন।
- তাঁর ছেলে বাপ্পারাজও বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের পরিচিত অভিনেতা।
নায়করাজ রাজ্জাক সম্পর্কে প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
নায়করাজ রাজ্জাক কে ছিলেন?
নায়করাজ রাজ্জাক ছিলেন বাংলাদেশের কিংবদন্তি চলচ্চিত্র অভিনেতা, পরিচালক ও প্রযোজক। কয়েক দশকের অভিনয়জীবনে তিনি ঢালিউডের অন্যতম প্রধান নায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন।
রাজ্জাককে নায়করাজ বলা হয় কেন?
দীর্ঘ সময় ধরে নায়ক হিসেবে তাঁর ব্যাপক জনপ্রিয়তা ও সাফল্যের কারণে চলচ্চিত্র পত্রিকা ‘চিত্রালী’-এর সম্পাদক আহমদ জামান চৌধুরী তাঁকে ‘নায়করাজ’ উপাধি দেন।
নায়করাজ রাজ্জাকের প্রথম সিনেমা কোনটি?
কলকাতায় রাজ্জাক ‘রতন লাল বাঙালি’ সিনেমায় ছোট চরিত্রে অভিনয় করে চলচ্চিত্রে যুক্ত হন। বাংলাদেশে তাঁর চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় ১৯৬৬ সালের ‘তেরো নম্বর ফেকু ওস্তাগার লেন’ সিনেমায়।
রাজ্জাকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিনেমা কোনগুলো?
রাজ্জাকের উল্লেখযোগ্য সিনেমার মধ্যে রয়েছে বেহুলা, নীল আকাশের নিচে, জীবন থেকে নেয়া, ওরা ১১ জন, অবুঝ মন, রংবাজ, আলোর মিছিল, অশিক্ষিত, ছুটির ঘণ্টা ও বড় ভালো লোক ছিল।
নায়করাজ রাজ্জাক কতটি সিনেমায় অভিনয় করেছেন?
বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্রে তিনি বাংলা ও উর্দু ভাষায় তিন শতাধিক সিনেমায় অভিনয় করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
নায়করাজ রাজ্জাক কতবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন?
রাজ্জাক শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে পাঁচবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন।
নায়করাজ রাজ্জাক কবে মারা যান?
নায়করাজ রাজ্জাক ২১ আগস্ট ২০১৭ সালে ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে মারা যান।
নায়করাজ রাজ্জাকের স্ত্রী কে ছিলেন?
নায়করাজ রাজ্জাকের স্ত্রী ছিলেন খায়রুন্নেসা লক্ষ্মী।
নায়করাজ রাজ্জাকের ছেলে কে?
রাজ্জাকের সন্তানদের মধ্যে বাপ্পারাজ ও সম্রাট চলচ্চিত্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বিশেষ করে বাপ্পারাজ একজন পরিচিত অভিনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন।
উপসংহার
নায়করাজ রাজ্জাক বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের এমন একজন কিংবদন্তি, যাঁর নাম ঢালিউডের ইতিহাসের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। সংগ্রাম দিয়ে শুরু করে তিনি ধীরে ধীরে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় নায়ক হয়ে ওঠেন।
‘বেহুলা’ থেকে শুরু করে অসংখ্য সফল সিনেমা, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, স্বাধীনতা পুরস্কার এবং আজীবন সম্মাননা—সবকিছু মিলিয়ে রাজ্জাকের ক্যারিয়ার বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
তিনি আজ আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তাঁর অভিনীত সিনেমা, চরিত্র ও চলচ্চিত্রে অবদান তাঁকে বাংলা সিনেমার ইতিহাসে চিরস্থায়ী করে রেখেছে।




