
বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাসে শাবনূর একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ও পরিচিত নাম। নব্বইয়ের দশকে ঢালিউডে তাঁর আবির্ভাব ঘটে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি দর্শকের প্রিয় নায়িকায় পরিণত হন। তাঁর পারিবারিক নাম কাজী শারমিন নাহিদ নূপুর। চলচ্চিত্র পরিচালক এহতেশাম তাঁর নাম পরিবর্তন করে ‘শাবনূর’ রাখেন।
শাবনূরের অভিনয়জীবনের সবচেয়ে আলোচিত অধ্যায়গুলোর একটি হলো কিংবদন্তি অভিনেতা সালমান শাহের সঙ্গে তাঁর জুটি। ‘তুমি আমার’, ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ‘স্বপ্নের পৃথিবী’, ‘তোমাকে চাই’ ও ‘আনন্দ অশ্রু’র মতো সিনেমায় তাঁদের জুটি দর্শকের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।
পরবর্তীতে শাবনূর রিয়াজ, মান্না, ফেরদৌস আহমেদ, শাকিল খান ও শাকিব খানের মতো জনপ্রিয় অভিনেতাদের সঙ্গেও সফলভাবে কাজ করেন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি দুই নয়নের আলো সিনেমায় অভিনয়ের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা অভিনেত্রীর সম্মান অর্জন করেন।
শাবনূরের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
- পূর্ণ নাম: কাজী শারমিন নাহিদ নূপুর
- চলচ্চিত্রের নাম: শাবনূর
- জন্ম: ১৭ ডিসেম্বর ১৯৭৯
- জন্মস্থান: নাভারণ, শার্শা, যশোর, বাংলাদেশ
- পেশা: চলচ্চিত্র অভিনেত্রী
- কর্মজীবন: ১৯৯৩–বর্তমান
- স্বামী: অনিক মাহমুদ
- সন্তান: আইজান নেহান
- ভাই-বোন: ঝুমুর ও তমাল
- নাগরিকত্ব: বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া
- পুরস্কার: জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ একাধিক সম্মাননা
শাবনূরের শৈশব ও পরিবার
শাবনূর ১৯৭৯ সালের ১৭ ডিসেম্বর যশোর জেলার শার্শা উপজেলার নাভারণে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পারিবারিক নাম কাজী শারমিন নাহিদ নূপুর। তাঁর বাবার নাম শাহজাহান চৌধুরী। তিন ভাই-বোনের মধ্যে শাবনূর বড়; তাঁর ছোট বোনের নাম ঝুমুর এবং ভাই তমাল।
ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের প্রতি তাঁর আগ্রহ ছিল। পরবর্তীতে চলচ্চিত্র পরিচালক এহতেশামের মাধ্যমে তিনি সিনেমার জগতে প্রবেশের সুযোগ পান। এহতেশামই তাঁর নাম ‘নূপুর’ থেকে পরিবর্তন করে শাবনূর রাখেন। ‘শাবনূর’ নামটি পরবর্তীতে তাঁর চলচ্চিত্র পরিচয়ের সঙ্গে স্থায়ীভাবে যুক্ত হয়ে যায়।
শাবনূরের চলচ্চিত্রে অভিষেক
১৯৯৩ সালে এহতেশাম পরিচালিত ‘চাঁদনী রাতে’ সিনেমার মাধ্যমে শাবনূরের বড় পর্দায় অভিষেক হয়। এই সিনেমায় তাঁর বিপরীতে অভিনয় করেন নবাগত সাব্বির। প্রথম সিনেমাটি প্রত্যাশিত ব্যবসায়িক সাফল্য না পেলেও শাবনূরের অভিনয়যাত্রা থেমে থাকেনি।
এরপর তিনি ‘হৃদয় আমার’ সিনেমায় আমিন খানের সঙ্গে অভিনয় করেন। সিনেমাটি তাঁকে দর্শকের কাছে আরও পরিচিত করে তোলে। তবে তাঁর ক্যারিয়ারের বড় পরিবর্তন আসে পরের বছর, যখন তিনি সালমান শাহর বিপরীতে ‘তুমি আমার’ সিনেমায় অভিনয় করেন।
সালমান শাহ ও শাবনূর জুটি
শাবনূরের ক্যারিয়ারে সালমান শাহর সঙ্গে জুটি ছিল অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ১৯৯৪ সালে মুক্তি পাওয়া ‘তুমি আমার’ সিনেমার মাধ্যমে এই জুটির যাত্রা শুরু হয়। সিনেমাটি দর্শকের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে এবং শাবনূর দ্রুত ঢালিউডের অন্যতম চাহিদাসম্পন্ন নায়িকায় পরিণত হন।
এরপর সালমান শাহ ও শাবনূর একসঙ্গে বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় সিনেমায় অভিনয় করেন। তাঁদের উল্লেখযোগ্য সিনেমার মধ্যে রয়েছে—
- তুমি আমার
- স্বপ্নের ঠিকানা
- স্বপ্নের পৃথিবী
- তোমাকে চাই
- আনন্দ অশ্রু
- বিক্ষোভ
- জীবন সংসার
সালমান শাহর অকালমৃত্যুর পরও শাবনূর তাঁর অভিনয়জীবন চালিয়ে যান এবং অন্যান্য জনপ্রিয় নায়কের সঙ্গে জুটি বেঁধে সফলতা অর্জন করেন।
আজও সালমান শাহ-শাবনূর জুটি বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় ও স্মরণীয় জুটি হিসেবে বিবেচিত হয়।
শাবনূরের জনপ্রিয়তা ও সফল ক্যারিয়ার
সালমান শাহর মৃত্যুর পর শাবনূরের ক্যারিয়ার থেমে যায়নি। বরং তিনি রিয়াজ, মান্না, ফেরদৌস আহমেদ, শাকিল খান ও শাকিব খানের মতো জনপ্রিয় অভিনেতাদের সঙ্গে অভিনয় করে নিজের অবস্থান আরও শক্তিশালী করেন।
বিশেষ করে রিয়াজের সঙ্গে তাঁর জুটি নব্বইয়ের দশকের শেষভাগ ও দুই হাজারের দশকের শুরুতে দর্শকের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়। ‘মন মানে না’, ‘তুমি শুধু তুমি’, ‘ভালোবাসি তোমাকে’ এবং ‘বিয়ের ফুল’ সহ বেশ কিছু সিনেমায় তাঁদের একসঙ্গে দেখা যায়।
এছাড়া ফেরদৌস আহমেদের সঙ্গেও শাবনূর একাধিক সিনেমায় অভিনয় করেছেন। ‘দুই নয়নের আলো’ সিনেমায়ও তাঁদের জুটি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এই সিনেমার জন্যই শাবনূর তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি অর্জন করেন।
শাবনূরের উল্লেখযোগ্য সিনেমা
দীর্ঘ অভিনয়জীবনে শাবনূর অসংখ্য জনপ্রিয় সিনেমায় অভিনয় করেছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে—
- চাঁদনী রাতে
- তুমি আমার
- স্বপ্নের ঠিকানা
- স্বপ্নের পৃথিবী
- তোমাকে চাই
- আনন্দ অশ্রু
- নারীর মন
- এ বাঁধন যাবে না ছিঁড়ে
- শ্বশুরবাড়ী জিন্দাবাদ
- প্রেমের তাজমহল
- স্বপ্নের বাসর
- স্বামী স্ত্রীর যুদ্ধ
- ভালোবাসা কারে কয়
- দুই বধূ এক স্বামী
- ফুলের মতো বউ
- মোল্লা বাড়ীর বউ
- আমার প্রাণের স্বামী
- এক টাকার বউ
- বলবো কথা বাসর ঘরে
- দুই নয়নের আলো
- কিছু আশা কিছু ভালোবাসা
- শিরি ফরহাদ
- পাগল মানুষ
এই সিনেমাগুলোর অনেকগুলোই শাবনূরের জনপ্রিয়তা ও দীর্ঘ ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
‘দুই নয়নের আলো’ ও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার
শাবনূরের অভিনয়জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জনগুলোর একটি হলো ‘দুই নয়নের আলো’ সিনেমায় অভিনয়। মোস্তাফিজুর রহমান মানিক পরিচালিত এই সিনেমাটি ২০০৫ সালে মুক্তি পায়। এতে শাবনূরের সঙ্গে অভিনয় করেন ফেরদৌস আহমেদ, শাকিল খান ও বুলবুল আহমেদ।
সিনেমাটিতে শাবনূর একজন সংগ্রামী নারীর চরিত্রে অভিনয় করেন। চরিত্রটির আবেগ, জীবনসংগ্রাম ও নানা সংকট তিনি পর্দায় দক্ষতার সঙ্গে তুলে ধরেন।
এই অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে শাবনূর ২০০৫ সালের ‘দুই নয়নের আলো’ সিনেমার জন্য বাংলাদেশ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা অভিনেত্রী নির্বাচিত হন। পুরস্কারটি তাঁর অভিনয়জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি।
শাবনূরের ব্যক্তিজীবন ও বিয়ে
শাবনূর তাঁর ব্যক্তিজীবন সাধারণত গণমাধ্যমের আলোচনার বাইরে রাখতে পছন্দ করেছেন। ব্যবসায়ী অনিক মাহমুদের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয় ২০১২ সালের ২৮ ডিসেম্বর। এর আগে ২০১১ সালের ৬ ডিসেম্বর তাঁদের বাগদান হয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তাঁদের দাম্পত্যজীবন দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। পরবর্তীতে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয় ২০২০ সালের ২৬ জানুয়ারি।
শাবনূরের সন্তান ও বর্তমান জীবন
শাবনূর ও অনিক মাহমুদের একমাত্র সন্তান আইজান নেহান। ২০১৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর অস্ট্রেলিয়ায় তাঁর সন্তানের জন্ম হয়।
বিয়ের পর শাবনূর অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস শুরু করেন এবং পরবর্তীতে অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্বও লাভ করেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তিনি অভিনয়ে অনেকটাই অনিয়মিত। তবে তাঁর পুরোনো সিনেমা ও অভিনয় নিয়ে দর্শকের আগ্রহ এখনো রয়েছে।
শাবনূরের পুরস্কার ও অর্জন
দীর্ঘ অভিনয়জীবনে শাবনূর বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন। তাঁর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অর্জন হলো—
- জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার – সেরা অভিনেত্রী: ‘দুই নয়নের আলো’
- বাচসাস পুরস্কার – সেরা অভিনেত্রী: ‘বউ শাশুড়ীর যুদ্ধ’
- মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার: তারকা জরিপে সেরা চলচ্চিত্র অভিনেত্রী হিসেবে একাধিকবার
- সিজেএফবি পারফরম্যান্স পুরস্কারসহ বিভিন্ন সম্মাননা
বিশেষ করে মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারে তাঁর একাধিক জয় তাঁর দীর্ঘ সময়ের জনপ্রিয়তার প্রমাণ। বিভিন্ন সূত্রে তাঁকে এই পুরস্কারের ১০ বারের বিজয়ী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
শাবনূরের শারীরিক গঠন
শাবনূরের শারীরিক গঠন নিয়ে বিভিন্ন অনলাইন জীবনীতে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়। তাই নির্দিষ্ট ওজন বা শরীরের মাপকে স্থায়ী তথ্য হিসেবে উল্লেখ না করাই ভালো।
তবে বিভিন্ন পুরোনো প্রোফাইলে তাঁর উচ্চতা প্রায় ৫ ফুট ৩ ইঞ্চি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর স্বাভাবিক অভিনয়, অভিব্যক্তি ও পর্দায় উপস্থিতিই বরং দর্শকের কাছে তাঁকে বিশেষভাবে জনপ্রিয় করে তুলেছিল।
শাবনূর সম্পর্কে মজার তথ্য
- শাবনূরের আসল নাম কাজী শারমিন নাহিদ নূপুর।
- চলচ্চিত্র পরিচালক এহতেশাম তাঁর নাম ‘শাবনূর’ রাখেন।
- ১৯৯৩ সালে ‘চাঁদনী রাতে’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় তাঁর।
- সালমান শাহর সঙ্গে তাঁর জুটি বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অন্যতম জনপ্রিয় জুটি।
- তিনি রিয়াজ, মান্না, ফেরদৌস আহমেদ ও শাকিব খানসহ অনেক জনপ্রিয় নায়কের সঙ্গে অভিনয় করেছেন।
- ‘দুই নয়নের আলো’ সিনেমার জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা অভিনেত্রী হন।
- শাবনূর একসময় বাংলাদেশের সর্বাধিক জনপ্রিয় ও চাহিদাসম্পন্ন নায়িকাদের একজন ছিলেন।
- বর্তমানে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস করেন।
- তাঁর একমাত্র সন্তানের নাম আইজান নেহান।
- অভিনয়ে অনিয়মিত হলেও পুরোনো সিনেমার মাধ্যমে তিনি এখনো দর্শকের কাছে জনপ্রিয়।
শাবনূর সম্পর্কে প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
শাবনূরের আসল নাম কী?
শাবনূরের আসল নাম কাজী শারমিন নাহিদ নূপুর। চলচ্চিত্রে আসার পর পরিচালক এহতেশাম তাঁর নাম পরিবর্তন করে শাবনূর রাখেন।
শাবনূর কবে চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করেন?
শাবনূর ১৯৯৩ সালে এহতেশাম পরিচালিত ‘চাঁদনী রাতে’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিনয় শুরু করেন।
শাবনূর ও সালমান শাহ একসঙ্গে কয়টি সিনেমায় অভিনয় করেছেন?
শাবনূর ও সালমান শাহ একসঙ্গে একাধিক জনপ্রিয় সিনেমায় অভিনয় করেছেন। তাঁদের জুটির উল্লেখযোগ্য সিনেমার মধ্যে ‘তুমি আমার’, ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ‘স্বপ্নের পৃথিবী’, ‘তোমাকে চাই’ ও ‘আনন্দ অশ্রু’ রয়েছে।
শাবনূর কোন সিনেমার জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান?
শাবনূর ‘দুই নয়নের আলো’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পান। সিনেমাটি ২০০৫ সালে মুক্তি পায়।
শাবনূরের স্বামী কে?
শাবনূরের সাবেক স্বামী হলেন ব্যবসায়ী অনিক মাহমুদ। তাঁদের বিয়ে হয় ২০১২ সালে এবং ২০২০ সালে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়।
শাবনূরের সন্তানের নাম কী?
শাবনূরের একমাত্র সন্তানের নাম আইজান নেহান। ২০১৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর অস্ট্রেলিয়ায় তাঁর জন্ম হয়।
উপসংহার
শাবনূর বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের এমন একজন অভিনেত্রী, যাঁর জনপ্রিয়তা একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নব্বইয়ের দশকে সালমান শাহর সঙ্গে জনপ্রিয় জুটি গড়ে তোলার পর তিনি রিয়াজ, মান্না, ফেরদৌস আহমেদ, শাকিল খান ও শাকিব খানের মতো তারকাদের সঙ্গেও সফলভাবে অভিনয় করেছেন।
তাঁর অভিনয়জীবনের অন্যতম বড় স্বীকৃতি আসে ‘দুই নয়নের আলো’ সিনেমার মাধ্যমে। এই সিনেমায় অসাধারণ অভিনয়ের জন্য তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা অভিনেত্রীর সম্মান অর্জন করেন।
অভিনয়ে বর্তমানে অনেকটাই অনিয়মিত হলেও শাবনূরের পুরোনো সিনেমা, বিশেষ করে সালমান শাহর সঙ্গে তাঁর জুটি, এখনো দর্শকের মনে বিশেষ জায়গা দখল করে আছে। তাই বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাসে শাবনূরের নাম একজন সফল, জনপ্রিয় ও স্মরণীয় অভিনেত্রী হিসেবেই দীর্ঘদিন উচ্চারিত হবে।




