তথ্য বিডি

ববিতার জীবনী – বয়স, স্বামী, সিনেমা, পরিবার ও ক্যারিয়ার

Farida Akhtar Babita, Babita

ববিতা বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অন্যতম জনপ্রিয় ও কিংবদন্তিতুল্য অভিনেত্রী। বিশেষ করে ১৯৭০ ও ১৯৮০-এর দশকে তিনি ঢালিউডের শীর্ষস্থানীয় অভিনেত্রী হিসেবে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে তিনি অসংখ্য সিনেমায় অভিনয় করেছেন এবং নিজের অভিনয় প্রতিভার মাধ্যমে দর্শকদের মনে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছেন।

বাংলাদেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ববিতার পরিচিতি তৈরি হয়। কিংবদন্তি ভারতীয় চলচ্চিত্র নির্মাতা সত্যজিৎ রায়ের ‘অশনি সংকেত’ সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হন। সিনেমাটিতে ‘অনঙ্গ বউ’ চরিত্রে তাঁর অভিনয় তাঁকে বিশ্ব চলচ্চিত্রের দর্শকদের কাছে পরিচিত করে তোলে।

ববিতা তাঁর অভিনয়জীবনে পাঁচবার শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেছেন। পাশাপাশি তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের আজীবন সম্মাননা এবং ২০২৬ সালে একুশে পদকেও ভূষিত হন।

Table of Contents

ববিতার সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

  • পুরো নাম: ফরিদা আক্তার পপি
  • চলচ্চিত্রের নাম: ববিতা
  • জন্ম: ৩০ জুলাই ১৯৫৩
  • জন্মস্থান: বাগেরহাট, বাংলাদেশ
  • পেশা: অভিনেত্রী
  • কর্মজীবন: ১৯৬৮–বর্তমান
  • স্বামী: ইফতেখার
  • সন্তান: অনীক
  • জাতীয়তা: বাংলাদেশি
  • ধর্ম: ইসলাম

ববিতা চলচ্চিত্রজগতে ‘ববিতা’ নামেই সর্বাধিক পরিচিত। তবে তাঁর জন্মনাম ছিল ফরিদা আক্তার পপি। ১৯৫৩ সালের ৩০ জুলাই বাগেরহাটে তাঁর জন্ম।

ববিতার শৈশব ও পারিবারিক জীবন

ববিতার জন্ম একটি শিক্ষিত পরিবারে। তাঁর বাবা এ এস এম নিজাম উদ্দিন আতাউব সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন। অন্যদিকে তাঁর মা জাহানারা চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং কলকাতার লেডি ব্রেবোর্ন কলেজে পড়াশোনা করেছিলেন।

ববিতার পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য পরবর্তীতে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের সঙ্গে যুক্ত হন। তাঁর বড় বোন সুচন্দা এবং ছোট বোন চম্পা দুজনই দেশের পরিচিত অভিনেত্রী।

ববিতার পরিবারে চলচ্চিত্রের সঙ্গে এই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তাঁর ক্যারিয়ার গড়ার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে বড় বোন সুচন্দার অনুপ্রেরণায় তিনি অভিনয় জগতে প্রবেশ করেন।

ববিতার শিক্ষাজীবন

শৈশবে ববিতার স্বপ্ন ছিল চিকিৎসক হওয়া। তিনি যশোরের দাউদ পাবলিক স্কুলে পড়াশোনা করেন। তবে অল্প বয়সেই চলচ্চিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পাওয়ায় তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা আর বেশি দূর এগোয়নি।

যদিও অভিনয়ই পরবর্তীতে তাঁর প্রধান পরিচয় হয়ে ওঠে, ছোটবেলা থেকেই তিনি শিক্ষার প্রতি আগ্রহী ছিলেন। পাশাপাশি পারিবারিক পরিবেশ ও জীবন অভিজ্ঞতা তাঁর ব্যক্তিত্ব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ববিতার চলচ্চিত্রে অভিষেক

ববিতা মাত্র কিশোরী বয়সে চলচ্চিত্রে পা রাখেন। ১৯৬৮ সালে কিংবদন্তি চলচ্চিত্র নির্মাতা জহির রায়হান পরিচালিত ‘সংসার’ সিনেমায় শিশুশিল্পী হিসেবে তাঁর রুপালি পর্দায় অভিষেক হয়। এই সিনেমায় তিনি রাজ্জাক ও সুচন্দার মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করেন।

চলচ্চিত্রে তাঁর নাম প্রথমদিকে ‘সুবর্ণা’ ছিল। পরবর্তীতে জহির রায়হানের ‘জ্বলতে সুরজ কে নিচে’ সিনেমায় অভিনয়ের সময় তাঁর নাম ‘ববিতা’ রাখা হয়। সেই নামেই তিনি পরবর্তীতে দেশ-বিদেশে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।

ববিতার নায়িকা হিসেবে ক্যারিয়ারের শুরু

শিশুশিল্পী হিসেবে অভিষেকের পর ববিতা ধীরে ধীরে নায়িকা হিসেবে নিজের অবস্থান তৈরি করেন। ১৯৬৯ সালে ‘জ্বলতে সুরজ কে নিচে’ সিনেমায় তিনি প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন।

সিনেমাটি মুক্তির সময় তাঁর ব্যক্তিজীবনে একটি বড় শোক নেমে আসে। সিনেমাটি মুক্তির দিনই তাঁর মা মারা যান। এত বড় ব্যক্তিগত কষ্টের মধ্যেও ববিতা পরবর্তীতে অভিনয় চালিয়ে যান এবং নিজের ক্যারিয়ারকে এগিয়ে নেন।

এরপর ‘স্বরলিপি’, ‘পিচঢালা পথ’, ‘টাকা আনা পাই’সহ বিভিন্ন সিনেমায় অভিনয় করে তিনি জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। বিশেষ করে রাজ্জাকের সঙ্গে তাঁর জুটি দর্শকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিল।

‘অশনি সংকেত’ ও আন্তর্জাতিক পরিচিতি

ববিতার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলোর একটি হলো সত্যজিৎ রায় পরিচালিত ‘অশনি সংকেত’ সিনেমায় অভিনয়।

১৯৭৩ সালে মুক্তি পাওয়া এই সিনেমায় ববিতা ‘অনঙ্গ বউ’ চরিত্রে অভিনয় করেন। সিনেমাটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বাংলার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে নির্মিত হয়েছিল।

সত্যজিৎ রায়ের মতো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নির্মাতার সিনেমায় অভিনয়ের সুযোগ ববিতাকে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র অঙ্গনে পরিচিত করে তোলে। ‘অশনি সংকেত’ বার্লিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে গোল্ডেন বিয়ার পুরস্কার জেতে।

এই সিনেমার মাধ্যমে ববিতা প্রথম বাংলাদেশি অভিনেত্রীদের একজন হিসেবে বিশ্ব চলচ্চিত্রের বড় মঞ্চে পরিচিতি পান।

ববিতার জনপ্রিয় সিনেমা

দীর্ঘ অভিনয়জীবনে ববিতা আড়াই শতাধিক সিনেমায় অভিনয় করেছেন। সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাঁর অভিনীত সিনেমার সংখ্যা ২৭৫টির কাছাকাছি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

তাঁর উল্লেখযোগ্য সিনেমাগুলোর মধ্যে রয়েছে—

  • সংসার
  • জ্বলতে সুরজ কে নিচে
  • স্বরলিপি
  • পিচঢালা পথ
  • টাকা আনা পাই
  • অশনি সংকেত
  • বাঁদী থেকে বেগম
  • নয়নমণি
  • বসুন্ধরা
  • গোলাপী এখন ট্রেনে
  • আগুনের পরশমণি
  • আলোর মিছিল
  • রামের সুমতি
  • দিপু নাম্বার টু
  • পোকামাকড়ের ঘরবসতি

বিশেষ করে ‘অশনি সংকেত’, ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’ এবং ‘আলোর মিছিল’ বাংলা চলচ্চিত্রে ববিতার অন্যতম স্মরণীয় কাজ হিসেবে বিবেচিত হয়।

ববিতার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার

ববিতা বাংলাদেশের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের ইতিহাসে অন্যতম সফল অভিনেত্রী। তিনি পাঁচবার শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেছেন।

ববিতার শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে পুরস্কারজয়ী সিনেমা

  • বাঁদী থেকে বেগম (১৯৭৫) – শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী
  • নয়নমণি (১৯৭৬) – শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী
  • বসুন্ধরা (১৯৭৭) – শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী
  • রামের সুমতি (১৯৮৫) – শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী
  • পোকামাকড়ের ঘরবসতি (১৯৯৬) – শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী

বিশেষ করে পরপর তিন বছর – ১৯৭৫, ১৯৭৬ ও ১৯৭৭ সালে – শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়া তাঁর অভিনয় প্রতিভার অসাধারণ স্বীকৃতি।

ববিতার আজীবন সম্মাননা ও একুশে পদক

ববিতার দীর্ঘ অভিনয়জীবনের স্বীকৃতি শুধু জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ২০১৬ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে তিনি আজীবন সম্মাননা লাভ করেন।

এছাড়া ২০২৬ সালে বাংলাদেশের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ বেসামরিক পুরস্কার একুশে পদকে ভূষিত হন ববিতা। চলচ্চিত্রে দীর্ঘদিনের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে এই সম্মান দেওয়া হয়।

ববিতার প্রযোজক হিসেবে কাজ

অভিনয়ের পাশাপাশি ববিতা চলচ্চিত্র প্রযোজনার সঙ্গেও যুক্ত হয়েছিলেন। তিনি নিজের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ববিতা মুভিজ প্রতিষ্ঠা করেন।

এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ‘ফুলশয্যা’, ‘আগমন’ ও ‘লটারি’র মতো সিনেমা প্রযোজনার সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন। ফলে চলচ্চিত্রে তাঁর ভূমিকা শুধু অভিনয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না।

ববিতার ব্যক্তিজীবন ও পরিবার

ববিতা ইফতেখারকে বিয়ে করেন। তাঁদের একমাত্র ছেলে অনীক। স্বামী মারা যাওয়ার পর ববিতা একাই তাঁর সন্তানকে বড় করেন। পরবর্তীতে অনীক উচ্চশিক্ষার জন্য কানাডায় চলে যান এবং সেখানেই বসবাস করছেন।

ববিতা বিভিন্ন সময়ে কানাডায় ছেলের সঙ্গে সময় কাটাতে যান। ২০২৬ সালেও তাঁর জন্মদিন উপলক্ষে কানাডায় ছেলের সঙ্গে সময় কাটানোর কথা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

ববিতা ও বাংলাদেশের চলচ্চিত্র পরিবার

ববিতার পরিবার বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। তাঁর বড় বোন সুচন্দা এবং ছোট বোন চম্পা দুজনই সফল অভিনেত্রী।

এছাড়া চলচ্চিত্র অভিনেতা রিয়াজ তাঁর আত্মীয়। জনপ্রিয় অভিনেতা ওমর সানীও ববিতার পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। ফলে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের একটি বড় পারিবারিক ঐতিহ্যের সঙ্গেও ববিতার নাম জড়িয়ে আছে।

ববিতার চলচ্চিত্রে অবদান ও উত্তরাধিকার

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের স্বর্ণযুগের কথা উঠলে ববিতার নাম অনিবার্যভাবে সামনে আসে। তাঁর অভিনয়জীবন পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে বিস্তৃত এবং এই দীর্ঘ সময়ে তিনি বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন।

বিশেষ করে সত্যজিৎ রায়ের ‘অশনি সংকেত’-এ অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি দেখিয়েছেন, বাংলাদেশের একজন অভিনেত্রী আন্তর্জাতিক মানের চলচ্চিত্রেও নিজের প্রতিভার পরিচয় দিতে পারেন।

তাঁর অভিনীত সিনেমাগুলোর অনেকগুলো এখনো দর্শকদের কাছে জনপ্রিয়। একই সঙ্গে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, আজীবন সম্মাননা ও একুশে পদকের মতো স্বীকৃতি তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ারের গুরুত্বকে আরও প্রতিষ্ঠিত করেছে।

ববিতা সম্পর্কে মজার তথ্য

  • ববিতার জন্মনাম ফরিদা আক্তার পপি।
  • তিনি ৩০ জুলাই ১৯৫৩ সালে বাগেরহাটে জন্মগ্রহণ করেন।
  • ১৯৬৮ সালে ‘সংসার’ সিনেমায় শিশুশিল্পী হিসেবে তাঁর অভিষেক হয়।
  • চলচ্চিত্রে তাঁর নাম ‘ববিতা’ রাখেন জহির রায়হান।
  • তিনি সত্যজিৎ রায়ের ‘অশনি সংকেত’ সিনেমায় অভিনয় করেন।
  • ‘অশনি সংকেত’ তাঁকে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিতি এনে দেয়।
  • তিনি পাঁচবার শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন।
  • ২০১৬ সালে তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের আজীবন সম্মাননা লাভ করেন।
  • ২০২৬ সালে তিনি একুশে পদকে ভূষিত হন।
  • ববিতা ২৭৫টির কাছাকাছি সিনেমায় অভিনয় করেছেন বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
  • তাঁর বড় বোন সুচন্দা এবং ছোট বোন চম্পাও বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী।

ববিতা সম্পর্কে প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

ববিতা কে?

ববিতা বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের একজন কিংবদন্তি অভিনেত্রী। তাঁর জন্মনাম ফরিদা আক্তার পপি। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে তিনি অসংখ্য সিনেমায় অভিনয় করেছেন এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিচিতি অর্জন করেছেন।

ববিতা কবে জন্মগ্রহণ করেন?

ববিতা ১৯৫৩ সালের ৩০ জুলাই বাংলাদেশের বাগেরহাটে জন্মগ্রহণ করেন।

ববিতার আসল নাম কী?

ববিতার জন্মনাম ফরিদা আক্তার পপি। চলচ্চিত্রে আসার পর তিনি ‘ববিতা’ নামে পরিচিত হন।

ববিতার প্রথম সিনেমা কোনটি?

১৯৬৮ সালে জহির রায়হান পরিচালিত ‘সংসার’ সিনেমায় শিশুশিল্পী হিসেবে ববিতার চলচ্চিত্রে অভিষেক হয়।

ববিতা কতবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন?

ববিতা পাঁচবার শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। এছাড়া তিনি আজীবন সম্মাননাও লাভ করেছেন।

ববিতার সবচেয়ে বিখ্যাত আন্তর্জাতিক সিনেমা কোনটি?

ববিতার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য আন্তর্জাতিক সিনেমা হলো সত্যজিৎ রায় পরিচালিত ‘অশনি সংকেত’। এই সিনেমার মাধ্যমে তিনি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র অঙ্গনে ব্যাপক পরিচিতি পান।

ববিতা কি একুশে পদক পেয়েছেন?

হ্যাঁ। ২০২৬ সালে চলচ্চিত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ববিতাকে একুশে পদক প্রদান করা হয়।

উপসংহার

ববিতা শুধু বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের একজন জনপ্রিয় অভিনেত্রী নন; তিনি দেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। শিশুশিল্পী হিসেবে ‘সংসার’ সিনেমা দিয়ে যাত্রা শুরু করে তিনি পরবর্তীতে ঢালিউডের অন্যতম শীর্ষ অভিনেত্রী হয়ে ওঠেন।

‘অশনি সংকেত’-এ সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গে কাজ করে তিনি আন্তর্জাতিক পরিচিতি অর্জন করেন। পাশাপাশি পাঁচটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, আজীবন সম্মাননা এবং একুশে পদকের মতো স্বীকৃতি তাঁর দীর্ঘ ও সমৃদ্ধ ক্যারিয়ারের সাক্ষ্য বহন করে।

দীর্ঘ পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে চলচ্চিত্রে তাঁর অবদান ববিতাকে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের অন্যতম স্মরণীয় ও সম্মানিত অভিনেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।