তথ্য বিডি

রিয়াজের জীবনী – বয়স, স্ত্রী, সিনেমা, ক্যারিয়ার ও পুরস্কার

Riaz Uddin Ahamed Siddique, Riaz Biography - Age, Early Life, Career, Wife & Achievements

রিয়াজ বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় ও সফল অভিনেতা। নব্বইয়ের দশকে ঢালিউডে পথচলা শুরু করে তিনি রোমান্টিক, সামাজিক ও ভিন্নধর্মী চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকদের মনে শক্ত অবস্থান তৈরি করেন। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে তিনি শতাধিক বাংলা চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন।

অভিনয়ের পাশাপাশি রিয়াজ মডেল, চলচ্চিত্র প্রযোজক ও টেলিভিশন উপস্থাপক হিসেবেও কাজ করেছেন। বিশেষ করে ‘প্রাণের চেয়ে প্রিয়’, ‘দুই দুয়ারী’, ‘দারুচিনি দ্বীপ’, ‘হৃদয়ের কথা’ এবং ‘কি যাদু করিলা’ – এর মতো সিনেমা তাঁর ক্যারিয়ারকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।

তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জনের পাশাপাশি রিয়াজ মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারসহ বিভিন্ন সম্মাননাও পেয়েছেন। ফলে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ার তাঁকে ঢালিউডের অন্যতম পরিচিত অভিনেতায় পরিণত করেছে।

Table of Contents

রিয়াজের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

  • পুরো নাম: রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ সিদ্দিক
  • পরিচিত নাম: রিয়াজ
  • জন্ম: ২৬ অক্টোবর ১৯৭২
  • জন্মস্থান: ফরিদপুর, বাংলাদেশ
  • পেশা: অভিনেতা, মডেল, চলচ্চিত্র প্রযোজক ও টেলিভিশন উপস্থাপক
  • জাতীয়তা: বাংলাদেশি
  • কর্মজীবন: ১৯৯৫–বর্তমান
  • স্ত্রী: মুশফিকা তিনা
  • ধর্ম: ইসলাম
  • উচ্চতা: প্রায় ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি

রিয়াজের জন্ম ২৬ অক্টোবর ১৯৭২ সালে ফরিদপুরে। তাঁর পুরো নাম রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ সিদ্দিক। চলচ্চিত্রে তিনি মূলত ‘রিয়াজ’ নামেই ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।

রিয়াজের শৈশব ও শিক্ষাজীবন

রিয়াজ ফরিদপুরের একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা জাইনুদ্দিন আহমেদ সিদ্দিক ছিলেন একজন সরকারি কর্মকর্তা এবং মা আরজুমান্দ আরা বেগম। বিভিন্ন জীবনীসূত্র অনুযায়ী, সাত ভাই-বোনের মধ্যে রিয়াজ ছিলেন পরিবারের কনিষ্ঠ সন্তান। তাঁর ছেলেবেলার একটি বড় অংশ ফরিদপুরের সিএনবি স্টাফ কোয়ার্টার্সে কেটেছে।

শিক্ষাজীবনে তিনি ফরিদপুরের ময়েজউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং যশোর ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন।

ছোটবেলায় অভিনয়কে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়ার পরিকল্পনা তাঁর ছিল না। বরং জীবনের একটি পর্যায়ে তিনি বিমানবাহিনীতে যোগ দেন এবং বৈমানিক হিসেবে কাজ করার সুযোগ পান।

রিয়াজের বিমানবাহিনীতে কর্মজীবন

চলচ্চিত্রে আসার আগে রিয়াজ বাংলাদেশ বিমানবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। ১৯৯১ সালে তিনি বিমানবাহিনীতে যোগ দেন এবং ফ্লাইং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তবে পরবর্তীতে বিমানবাহিনীর চাকরি ছেড়ে তিনি চলচ্চিত্র জগতে প্রবেশ করেন। তাঁর জীবনের এই পরিবর্তন ছিল বেশ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বৈমানিকের পেশা থেকে তিনি অল্প সময়ের মধ্যেই বাংলাদেশের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র অভিনেতাদের একজন হয়ে ওঠেন।

রিয়াজের চলচ্চিত্রে অভিষেক

রিয়াজ ১৯৯৫ সালে দেওয়ান নজরুল পরিচালিত ‘বাংলার নায়ক’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করেন। সিনেমাটি ছিল তাঁর বড় পর্দায় অভিষেকের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

চলচ্চিত্রে আসার পেছনে তাঁর চাচাতো বোন ও জনপ্রিয় অভিনেত্রী ববিতা-র ভূমিকা ছিল। তাঁর উৎসাহে রিয়াজ চলচ্চিত্রে কাজ করার সুযোগ পান। এরপর ধীরে ধীরে তিনি নির্মাতা ও দর্শকদের নজরে আসতে শুরু করেন।

‘প্রাণের চেয়ে প্রিয়’ দিয়ে জনপ্রিয়তা

১৯৯৭ সালে রিয়াজ অভিনয় করেন মোহাম্মদ হান্নান পরিচালিত ‘প্রাণের চেয়ে প্রিয়’ সিনেমায়। এই সিনেমাটি তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে ওঠে।

প্রাণের চেয়ে প্রিয়’-এর সাফল্যের পর রিয়াজ ঢালিউডের জনপ্রিয় নায়ক হিসেবে নিজের অবস্থান শক্ত করেন। এরপর একের পর এক বাণিজ্যিক ও গল্পনির্ভর সিনেমায় অভিনয়ের সুযোগ পান তিনি।

নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে এবং ২০০০-এর দশকে শাবনূর, পূর্ণিমা সহ বিভিন্ন জনপ্রিয় অভিনেত্রীর সঙ্গে তাঁর জুটি দর্শকদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

রিয়াজের উল্লেখযোগ্য সিনেমা

দীর্ঘ অভিনয়জীবনে রিয়াজ বিভিন্ন ধরনের চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য সিনেমাগুলোর মধ্যে রয়েছে—

  • বাংলার নায়ক
  • প্রাণের চেয়ে প্রিয়
  • দুই দুয়ারী
  • শ্যামল ছায়া
  • হাজার বছর ধরে
  • দারুচিনি দ্বীপ
  • হৃদয়ের কথা
  • মনের মাঝে তুমি
  • প্রেমের তাজমহল
  • ভুল নম্বর
  • কি যাদু করিলা
  • আকাশ ছোঁয়া ভালোবাসা
  • কৃষ্ণপক্ষ
  • মুজিব: দ্য মেকিং অব আ নেশন

বিশেষ করে ‘দুই দুয়ারী’, ‘দারুচিনি দ্বীপ’ এবং ‘কি যাদু করিলা’ সিনেমা তাঁর অভিনয় ক্যারিয়ারে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

রিয়াজ ও হুমায়ূন আহমেদের সিনেমা

রিয়াজের ক্যারিয়ারে হুমায়ূন আহমেদের চলচ্চিত্রগুলোরও বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। ‘দুই দুয়ারী’ এবং ‘শ্যামল ছায়া’র মতো সিনেমায় অভিনয় করে তিনি নিজেকে শুধু বাণিজ্যিক নায়ক হিসেবে নয়, গল্পনির্ভর চলচ্চিত্রের অভিনেতা হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করেন।

বিশেষ করে ‘দুই দুয়ারী’ সিনেমায় তাঁর অভিনয় তাঁকে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের স্বীকৃতি এনে দেয়। পরবর্তীতে ‘দারুচিনি দ্বীপ’ সিনেমাতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেন।

রিয়াজের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার

রিয়াজ তাঁর অভিনয়জীবনে তিনবার বাংলাদেশ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা নির্বাচিত হয়েছেন। এই অর্জন তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় সাফল্য।

রিয়াজের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী সিনেমা

  • দুই দুয়ারী (২০০০) – শ্রেষ্ঠ অভিনেতা
  • দারুচিনি দ্বীপ (২০০৭) – শ্রেষ্ঠ অভিনেতা
  • কি যাদু করিলা (২০০৮) – শ্রেষ্ঠ অভিনেতা

‘দুই দুয়ারী’, ‘দারুচিনি দ্বীপ’ এবং ‘কি যাদু করিলা’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য তিনি এই তিনটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন।

এছাড়া তিনি মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারসহ বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন। তাঁর অভিনয়ের বৈচিত্র্য এবং দীর্ঘস্থায়ী জনপ্রিয়তা তাঁকে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের গুরুত্বপূর্ণ অভিনেতাদের একজন করেছে।

রিয়াজের আন্তর্জাতিক কাজ

বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের পাশাপাশি রিয়াজ আন্তর্জাতিক পর্যায়েও কাজ করেছেন। তিনি বলিউড অভিনেত্রী সুস্মিতা সেন-এর সঙ্গে ইংরেজি ভাষার চলচ্চিত্র ‘It Was Raining That Night’ এ অভিনয় করেন।

২০০৫ সালে মুক্তি পাওয়া এই চলচ্চিত্রের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রেও রিয়াজের উপস্থিতি দেখা যায়।

রিয়াজের ব্যক্তিজীবন ও পরিবার

রিয়াজ ২০০৭ সালের ১৮ ডিসেম্বর মুশফিকা তিনাকে বিয়ে করেন। মুশফিকা তিনা মডেলিংয়ের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন এবং ২০০৪ সালের ‘বিনোদন বিচিত্রা ফটো সুন্দরী’ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হন।

রিয়াজের পরিবারও বাংলাদেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। জনপ্রিয় অভিনেত্রী সুচন্দা, ববিতা এবং চম্পা তাঁর আত্মীয়। কিংবদন্তি চলচ্চিত্র পরিচালক জহির রায়হানও তাঁর পারিবারিক সম্পর্কের মাধ্যমে এই চলচ্চিত্র পরিবারের সঙ্গে যুক্ত।

রিয়াজের ব্যক্তিজীবনে পরিবার, অভিনয় ও ব্যবসা – এই তিনটি বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

রিয়াজের ব্যবসায়িক জীবন

অভিনয়ের বাইরে রিয়াজ ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত। তিনি বিভিন্ন ব্যবসায়িক উদ্যোগের সঙ্গে কাজ করেছেন এবং ‘Yes Corporation Ltd.’-এর মাধ্যমে সি-ফুড ও কোমল পানীয় ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

এছাড়া বিভিন্ন জীবনীসূত্রে তাঁকে Ashiyan Group এর পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।

ফলে অভিনয়ের পাশাপাশি ব্যবসায়িক ক্ষেত্রেও তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছে। এটি তাঁর বহুমুখী কর্মজীবনের আরেকটি দিক তুলে ধরে।

রিয়াজের শারীরিক গঠন

  • উচ্চতা: প্রায় ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি
  • চুলের রং: কালো
  • চোখের রং: কালো

বিভিন্ন অনলাইন উৎসে রিয়াজের ওজন, বুক ও কোমরের মাপ নিয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়। তাই যাচাইযোগ্য তথ্যের বাইরে নির্দিষ্ট শারীরিক মাপ উল্লেখ না করাই ভালো।

রিয়াজ ও সালমান শাহের সম্পর্ক

নব্বইয়ের দশকে সালমান শাহ ছিলেন বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় নায়ক। তাঁর মৃত্যুর পর ঢালিউডে যে শূন্যতা তৈরি হয়, সেই সময় রিয়াজসহ কয়েকজন অভিনেতা জনপ্রিয় নায়ক হিসেবে সামনে আসেন।

রিয়াজের ক্যারিয়ারও সেই সময়ে দ্রুত এগিয়ে যায়। ফলে অনেক সময় তাঁকে সালমান শাহের পরবর্তী প্রজন্মের জনপ্রিয় নায়কদের একজন হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তবে রিয়াজ নিজের অভিনয়শৈলী ও চলচ্চিত্র নির্বাচনের মাধ্যমে পরবর্তীতে স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করেন।

রিয়াজের ক্যারিয়ার ও উত্তরাধিকার

রিয়াজের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো দীর্ঘ সময় ধরে জনপ্রিয়তা ধরে রাখা। নব্বইয়ের দশকের বাণিজ্যিক সিনেমা থেকে শুরু করে সাহিত্যনির্ভর ও গল্পপ্রধান চলচ্চিত্র – বিভিন্ন ধরনের কাজে তিনি নিজেকে মানিয়ে নিয়েছেন।

শুধু নায়ক হিসেবে নয়, চরিত্রাভিনেতা হিসেবেও তাঁর অভিনয় দর্শকদের প্রশংসা পেয়েছে। বিশেষ করে ‘দুই দুয়ারী’, ‘দারুচিনি দ্বীপ’ ও ‘কি যাদু করিলা’র মতো সিনেমা তাঁর অভিনয়ের পরিধিকে আরও স্পষ্ট করেছে।

আজও রিয়াজ বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের পরিচিত মুখ। তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ার এবং অর্জন তাঁকে ঢালিউডের অন্যতম সফল অভিনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

রিয়াজ সম্পর্কে মজার তথ্য

  • রিয়াজের পুরো নাম রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ সিদ্দিক।
  • তিনি ২৬ অক্টোবর ১৯৭২ সালে ফরিদপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
  • চলচ্চিত্রে আসার আগে তিনি বাংলাদেশ বিমানবাহিনীতে কাজ করেছেন।
  • ১৯৯৫ সালে ‘বাংলার নায়ক’ সিনেমার মাধ্যমে তাঁর চলচ্চিত্রে অভিষেক হয়।
  • ‘প্রাণের চেয়ে প্রিয়’ সিনেমার মাধ্যমে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
  • তিনি শতাধিক বাংলা চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।
  • রিয়াজ তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হয়েছেন।
  • তিনি ‘দুই দুয়ারী’, ‘দারুচিনি দ্বীপ’ ও ‘কি যাদু করিলা’ সিনেমার জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান।
  • তিনি বলিউড অভিনেত্রী সুস্মিতা সেনের সঙ্গে ইংরেজি ভাষার চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।
  • তাঁর স্ত্রী মুশফিকা তিনাও মডেলিংয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
  • অভিনয়ের পাশাপাশি রিয়াজ প্রযোজনা, উপস্থাপনা ও ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।

রিয়াজ সম্পর্কে প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

রিয়াজের পুরো নাম কী?

রিয়াজের পুরো নাম রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ সিদ্দিক।

রিয়াজ কবে জন্মগ্রহণ করেন?

রিয়াজ ১৯৭২ সালের ২৬ অক্টোবর বাংলাদেশের ফরিদপুরে জন্মগ্রহণ করেন।

রিয়াজের প্রথম সিনেমার নাম কী?

রিয়াজ ১৯৯৫ সালে দেওয়ান নজরুল পরিচালিত ‘বাংলার নায়ক’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক করেন।

রিয়াজের স্ত্রী কে?

রিয়াজের স্ত্রী হলেন মুশফিকা তিনা। তাঁরা ২০০৭ সালের ১৮ ডিসেম্বর বিয়ে করেন।

রিয়াজ কতবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন?

রিয়াজ এখন পর্যন্ত তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হয়েছেন। তাঁর পুরস্কারজয়ী সিনেমা হলো ‘দুই দুয়ারী’, ‘দারুচিনি দ্বীপ’ এবং ‘কি যাদু করিলা’।

রিয়াজ কতটি সিনেমায় অভিনয় করেছেন?

রিয়াজ তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ারে শতাধিক বাংলা চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।

উপসংহার

রিয়াজ বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের এমন একজন অভিনেতা, যিনি দীর্ঘ সময় ধরে দর্শকদের ভালোবাসা ধরে রেখেছেন। বিমানবাহিনীর বৈমানিক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেও শেষ পর্যন্ত চলচ্চিত্রকে নিজের প্রধান পরিচয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

‘বাংলার নায়ক’ দিয়ে চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু করার পর ‘প্রাণের চেয়ে প্রিয়’ তাঁকে জনপ্রিয় নায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। এরপর ‘দুই দুয়ারী’, ‘দারুচিনি দ্বীপ’, ‘কি যাদু করিলা’, ‘হৃদয়ের কথা’সহ বিভিন্ন সিনেমায় অভিনয় করে তিনি নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন।

তিনটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, শতাধিক সিনেমায় অভিনয় এবং দীর্ঘস্থায়ী জনপ্রিয়তা – সব মিলিয়ে রিয়াজ বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসের অন্যতম সফল ও স্মরণীয় অভিনেতা।