
বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাসে যে কয়েকজন অভিনেতা দর্শকের মনে দীর্ঘস্থায়ী জায়গা করে নিয়েছেন, মান্না তাদের মধ্যে অন্যতম। তাঁর আসল নাম এস এম আসলাম তালুকদার। তবে পর্দায় তিনি ‘মান্না’ নামেই পরিচিতি পান এবং এই নামেই কোটি দর্শকের ভালোবাসা অর্জন করেন।
অ্যাকশন, আবেগ ও সাধারণ মানুষের জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত চরিত্রে অভিনয়ের জন্য মান্না বিশেষভাবে জনপ্রিয় ছিলেন। বিশেষ করে ১৯৯০-এর দশক থেকে ২০০০-এর দশকের শুরুর দিকে তিনি বাংলাদেশের বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রের অন্যতম প্রধান নায়ক হয়ে ওঠেন।
শক্তিশালী সংলাপ বলার ধরন, স্বতন্ত্র অভিনয়শৈলী এবং পর্দায় উপস্থিতির কারণে মান্না খুব অল্প সময়ের মধ্যেই দর্শকদের প্রিয় তারকায় পরিণত হন। দুই শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করা এই অভিনেতা আজও ঢালিউডের অন্যতম জনপ্রিয় নায়ক হিসেবে স্মরণীয়।
মান্নার সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
- পুরো নাম: এস এম আসলাম তালুকদার
- পরিচিত নাম: মান্না
- জন্ম: ১৪ এপ্রিল ১৯৬৪
- জন্মস্থান: এলেঙ্গা, কালিহাতী, টাঙ্গাইল
- শিক্ষাগত যোগ্যতা: উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি)
- পেশা: অভিনেতা ও চলচ্চিত্র প্রযোজক
- কর্মজীবন: ১৯৮৪–২০০৮
- ধর্ম: ইসলাম
- স্ত্রী: শেলী কাদের
- সন্তান: এস এম সিয়াম ইলতেমাস
- মৃত্যু: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০০৮
- জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার: ২০০৬ সালে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা
মান্নার শৈশব ও শিক্ষাজীবন
মান্না ১৯৬৪ সালের ১৪ এপ্রিল টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর আসল নাম ছিল এস এম আসলাম তালুকদার। ছোটবেলা থেকেই সিনেমা ও অভিনয়ের প্রতি তাঁর আগ্রহ ছিল।
উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাস করার পর তিনি ঢাকায় এসে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি অভিনয়ের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে চলচ্চিত্রে প্রবেশের সুযোগ তাঁর জীবনের গতিপথই বদলে দেয়।
চলচ্চিত্রে মান্নার আগমন
মান্নার চলচ্চিত্রে আসার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন সংস্থা বা এফডিসির ‘নতুন মুখের সন্ধানে’ কার্যক্রমের। ১৯৮৪ সালে তিনি এই কার্যক্রমে নির্বাচিত হন।
এরপর ধীরে ধীরে চলচ্চিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পান। তাঁর অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র ছিল ‘তওবা’। তবে সেটি প্রথমে মুক্তি পায়নি। মান্নার প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র হিসেবে ‘পাগলী’-র নাম উল্লেখ করা হয়।
শুরুর দিকে মান্না মূলত পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করতেন। সে সময় চলচ্চিত্রে প্রতিষ্ঠিত অনেক তারকার ভিড়ে নিজের জায়গা তৈরি করা সহজ ছিল না। কিন্তু ধারাবাহিক অভিনয় ও পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি ধীরে ধীরে দর্শকদের নজরে আসতে শুরু করেন।
‘কাসেম মালার প্রেম’ ও নায়ক হিসেবে উত্থান
মান্নার ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ মোড় আসে ‘কাসেম মালার প্রেম’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে। ১৯৯১ সালে মুক্তি পাওয়া এই ছবিতে তিনি চম্পার বিপরীতে একক নায়ক হিসেবে অভিনয় করেন। ছবিটি দর্শকদের মধ্যে সাড়া ফেলে এবং মান্নার নায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পথ আরও শক্ত হয়।
এরপর একের পর এক বাণিজ্যিক ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ পান তিনি। ‘দাঙ্গা’, ‘ত্রাস’, ‘চাঁদাবাজ’ সহ বিভিন্ন চলচ্চিত্রে তাঁর অভিনয় জনপ্রিয়তা বাড়িয়ে দেয়।
বিশেষ করে ‘দাঙ্গা’ চলচ্চিত্রকে তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এরপর মান্না ধীরে ধীরে ঢালিউডের অন্যতম নির্ভরযোগ্য বাণিজ্যিক নায়ক হয়ে ওঠেন।
১৯৯০-এর দশকে মান্নার জনপ্রিয়তা
১৯৯০-এর দশকে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে বাণিজ্যিক সিনেমার ব্যাপক জনপ্রিয়তা ছিল। একই সময়ে চলচ্চিত্রের মান নিয়ে নানা সমালোচনাও তৈরি হয়। এই পরিস্থিতিতে মান্না শুধু অ্যাকশনধর্মী চরিত্রেই সীমাবদ্ধ থাকেননি; বরং সাধারণ মানুষের জীবন, সংগ্রাম, অন্যায় ও সামাজিক সমস্যাকে কেন্দ্র করে নির্মিত বিভিন্ন চরিত্রেও অভিনয় করেছেন।
মান্নার অভিনয়ের একটি বড় বৈশিষ্ট্য ছিল তাঁর শক্তিশালী সংলাপ উপস্থাপন এবং আবেগপূর্ণ অভিনয়। ফলে পর্দায় তাঁর চরিত্রগুলো সহজেই দর্শকের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করত।
চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেন। সেই সময় চলচ্চিত্রে অশ্লীলতার বিরুদ্ধে আন্দোলনেও তিনি সক্রিয় ছিলেন।
মান্নার জনপ্রিয় সিনেমা
দীর্ঘ অভিনয়জীবনে মান্না দুই শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য সিনেমার মধ্যে রয়েছে—
- আম্মাজান
- দাঙ্গা
- আব্বাজান
- কাসেম মালার প্রেম
- ত্রাস
- কষ্ট
- বীর সৈনিক
- লুটতরাজ
- মায়ের মর্যাদা
- চাঁদাবাজ
- দেশদ্রোহী
- লাল বাদশা
এসব চলচ্চিত্রের মাধ্যমে মান্না কখনো অ্যাকশন নায়ক, কখনো সংগ্রামী মানুষ, আবার কখনো আবেগপ্রবণ চরিত্রে দর্শকদের সামনে হাজির হয়েছেন।
‘আম্মাজান’ সিনেমায় মান্না
মান্নার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে আলোচিত চলচ্চিত্রগুলোর একটি হলো ‘আম্মাজান’। ১৯৯৯ সালে মুক্তি পাওয়া এই সিনেমা বাণিজ্যিকভাবে ব্যাপক সফলতা অর্জন করে এবং মান্নার জনপ্রিয়তাকে আরও অনেক দূর এগিয়ে নেয়।
এই সিনেমায় মান্নার সঙ্গে অভিনয় করেন মৌসুমী, আমিন খান, মনোয়ার হোসেন ডিপজল ও মিজু আহমেদসহ আরও অনেকে।
‘আম্মাজান’ শুধু মান্নার জনপ্রিয় সিনেমাগুলোর একটি নয়, বরং বাংলাদেশের বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রের অন্যতম স্মরণীয় সিনেমা হিসেবেও দর্শকদের কাছে পরিচিত।
মান্নার অভিনয়ের ধরন
মান্নার অভিনয়ের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল তাঁর শক্তিশালী পর্দা উপস্থিতি। অ্যাকশন দৃশ্যের পাশাপাশি আবেগপূর্ণ মুহূর্তেও তিনি দর্শকদের মনোযোগ ধরে রাখতে পারতেন।
বিশেষ করে সংলাপ বলার সময় তাঁর কণ্ঠের দৃঢ়তা এবং চরিত্রের প্রতি আবেগ তাঁকে অন্য অনেক অভিনেতার থেকে আলাদা করে তুলেছিল।
তাঁর সিনেমায় সাধারণত সমাজের নিপীড়িত, বঞ্চিত ও সংগ্রামী মানুষের গল্প উঠে আসত। এ কারণেই অনেক দর্শক তাঁর চরিত্রগুলোর সঙ্গে নিজেদের জীবনের মিল খুঁজে পেতেন।
মান্নার ব্যক্তিজীবন ও পরিবার
ব্যক্তিজীবনে মান্না অভিনেত্রী শেলী কাদেরের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। শেলী কাদের পরবর্তীতে ‘শেলী মান্না’ নামেও পরিচিত হন।
তাদের একমাত্র ছেলে এস এম সিয়াম ইলতেমাস। মান্নার মৃত্যুর পর তাঁর পরিবার ও সহকর্মীরা বিভিন্ন সময় তাঁর স্মৃতিচারণ করেছেন।
ব্যস্ত চলচ্চিত্রজীবনের পাশাপাশি মান্না চলচ্চিত্রের সহকর্মীদের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখতেন। তাঁর সহকর্মীদের অনেকেই পরবর্তীতে তাঁর সহজ-সরল ব্যবহার ও মানুষের প্রতি আন্তরিকতার কথা স্মরণ করেছেন।
চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতিতে মান্না
অভিনয়ের পাশাপাশি মান্না চলচ্চিত্র শিল্পীদের সংগঠনেও সক্রিয় ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
সাধারণ সম্পাদক থাকাকালে চলচ্চিত্রে অশ্লীলতার বিরুদ্ধে আন্দোলনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাঁর স্ত্রী শেলী মান্নাও পরবর্তীতে জানিয়েছেন, সেই সময় মান্না এ বিষয়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করেছিলেন।
মান্নার প্রযোজক হিসেবে কাজ
শুধু অভিনয় নয়, মান্না চলচ্চিত্র প্রযোজনার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। ফলে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে তাঁর অবদান কেবল একজন অভিনেতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না।
অভিনয়, প্রযোজনা এবং চলচ্চিত্র শিল্পীদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ—সব মিলিয়ে তিনি ইন্ডাস্ট্রিতে বহুমুখী ভূমিকা পালন করেছেন।
মান্নার পুরস্কার ও অর্জন
মান্নার দীর্ঘ অভিনয়জীবনে বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মাননা যুক্ত হয়েছে। তাঁর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অর্জন হলো ২০০৬ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে পুরস্কৃত হওয়া।
তিনি ‘বীর সৈনিক’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য এই পুরস্কার অর্জন করেন। সিনেমাটি ২০০৩ সালে মুক্তি পেয়েছিল।
এ ছাড়া তিনি মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার ও বাচসাস পুরস্কারসহ বিভিন্ন স্বীকৃতিও পেয়েছেন।
মান্নার মৃত্যু
২০০৮ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি মান্নার আকস্মিক মৃত্যু বাংলাদেশের চলচ্চিত্র অঙ্গন ও তাঁর ভক্তদের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি করে।
আগের রাতে শুটিং শেষে বাসায় ফেরার পর তিনি বুকে ব্যথা অনুভব করেন। পরে তাঁকে ঢাকার গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানেই তিনি মারা যান। বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্র তাঁর মৃত্যুর কারণ হিসেবে হৃদ্রোগের কথা উল্লেখ করেছে।
মাত্র ৪০-এর দশকে তাঁর এই অকালমৃত্যু বাংলা চলচ্চিত্রের জন্য বড় ক্ষতি হিসেবে বিবেচিত হয়। মৃত্যুর সময়ও তাঁর হাতে বেশ কিছু চলচ্চিত্রের কাজ ছিল বলে সংবাদমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছিল।
মান্নার উত্তরাধিকার
মান্না আজ আর আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তাঁর অভিনীত সিনেমা ও চরিত্রগুলো এখনো দর্শকদের মনে জায়গা করে আছে।
বিশেষ করে ‘আম্মাজান’, ‘দাঙ্গা’, ‘আব্বাজান’, ‘বীর সৈনিক’, ‘লুটতরাজ’ সহ তাঁর অসংখ্য সিনেমা বাংলাদেশের বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে আছে।
তাঁর মৃত্যুর পরও বিভিন্ন সময়ে মান্নাকে স্মরণ করে চলচ্চিত্র উৎসব ও স্মরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। তাঁর জনপ্রিয়তা যে মৃত্যুর পরও কমেনি, এসব আয়োজন তারই প্রমাণ।
বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে গণমানুষের গল্প ও বাণিজ্যিক বিনোদনকে একসঙ্গে জনপ্রিয় করার ক্ষেত্রে মান্নার অবদান বিশেষভাবে স্মরণীয়। তাই ঢালিউডের ইতিহাসে তাঁর নাম দীর্ঘদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারিত হবে।
মান্না সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
- মান্নার আসল নাম এস এম আসলাম তালুকদার।
- তিনি টাঙ্গাইলের এলেঙ্গায় জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৮৪ সালে নতুন মুখের সন্ধানে কার্যক্রমের মাধ্যমে চলচ্চিত্রে আসেন।
- তাঁর অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র ছিল ‘তওবা’।
- তাঁর প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা হিসেবে ‘পাগলী’-র নাম উল্লেখ করা হয়।
- ‘কাসেম মালার প্রেম’ তাঁকে নায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
- তিনি দুই শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন।
- ২০০৬ সালে ‘বীর সৈনিক’ চলচ্চিত্রের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হন।
- তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
- ২০০৮ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।
মান্না সম্পর্কে প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
মান্নার আসল নাম কী?
মান্নার আসল নাম এস এম আসলাম তালুকদার।
মান্না কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
মান্না টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গায় জন্মগ্রহণ করেন।
মান্নার জন্ম তারিখ কত?
মান্নার জন্মতারিখ নিয়ে অনলাইনে কিছু অসঙ্গতি দেখা যায়। তবে একাধিক বাংলা সংবাদসূত্র ও জীবনীভিত্তিক উৎসে ১৪ এপ্রিল ১৯৬৪ তারিখটি উল্লেখ করা হয়েছে।
মান্নার প্রথম সিনেমার নাম কী?
মান্নার অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র ছিল ‘তওবা’। তবে তাঁর প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা হিসেবে ‘পাগলী’-র নাম উল্লেখ করা হয়।
মান্নার সবচেয়ে জনপ্রিয় সিনেমা কোনগুলো?
মান্নার জনপ্রিয় সিনেমার মধ্যে আম্মাজান, দাঙ্গা, আব্বাজান, কাসেম মালার প্রেম, ত্রাস, বীর সৈনিক, লুটতরাজ ও মায়ের মর্যাদা উল্লেখযোগ্য।
মান্না কত সালে মারা যান?
মান্না ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০০৮ সালে ঢাকায় মারা যান। বিভিন্ন সংবাদসূত্র অনুযায়ী তাঁর মৃত্যু হৃদ্রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর ঘটে।
মান্নার স্ত্রী কে ছিলেন?
মান্নার স্ত্রী ছিলেন শেলী কাদের, যিনি পরে শেলী মান্না নামেও পরিচিত হন।
মান্না কোন সিনেমার জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান?
মান্না ‘বীর সৈনিক’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য ২০০৬ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা পুরস্কার পান।
উপসংহার
মান্নার জীবনী শুধু একজন জনপ্রিয় অভিনেতার সাফল্যের গল্প নয়; এটি বাংলাদেশের বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ের গল্পও। সাধারণ মানুষের সঙ্গে সহজে সংযোগ তৈরি করতে পারা, শক্তিশালী অভিনয় এবং স্বতন্ত্র সংলাপ উপস্থাপনের মাধ্যমে তিনি নিজের জন্য আলাদা একটি জায়গা তৈরি করেছিলেন।
দুই শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করে এবং জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করে মান্না বাংলা চলচ্চিত্রে নিজের স্থায়ী অবস্থান তৈরি করেন। তাঁর অকালমৃত্যু চলচ্চিত্র অঙ্গনে বড় শূন্যতা তৈরি করলেও তাঁর সিনেমা ও অভিনয় আজও নতুন প্রজন্মের দর্শকদের কাছে পরিচিত।
এই কারণেই নায়ক মান্না বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাসে আজও একজন স্মরণীয় ও জনপ্রিয় অভিনেতা হিসেবে বেঁচে আছেন।




